1. admin@nplustv.com : admin : Shadat Hossain Raju
মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

স্থগিতাদেশে থেমে আছে চিত্রনায়ক মান্না মৃত্যু মামলার বিচার

রিপোর্টারের নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১
  • ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম নায়ক এস এম আসলাম তালুকদার মান্নার মৃত্যুর এক যুগ পার হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচার। চিত্র নায়ক মান্নার মৃত্যুর মামলাটিতে ইউনাইটেড হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়। বিচার বিভাগীয় তদন্তে শেষে ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার আদেশ দিলেও উচ্চ আদালতে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। যার ফলে বিচার প্রক্রিয়া আর এগোতে পারেনি।

২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বুকে ব্যথা অনুভব করায় ভোর রাত ৪টায় মান্না ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসেন সকাল ৯টায়। চিকিৎসা দেরিতে শুরু হওয়ায় রোগীর অবস্থা ’অ্যাকিউট’ কন্ডিশনে চলে যায়। ’মায়োকারডিয়াল ইনফ্রাকশনে’ আক্রান্ত হওয়ার ৯০ মিনিটের মধ্যে রোগীকে নির্দিষ্ট ইনজেকশন দিতে হয়। কিন্তু মান্নাকে এ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আক্রান্ত হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর। হৃদরোগ বিভাগের ওই ৬ চিকিৎসকদের অবহেলার জন্য মান্নার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটি এক নম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সম্প্রতি মান্নার পরিবার থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।

মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না জানান, এক যুগ তো পার হয়ে গেল, আর কত? কিছু ডাক্তারের অবহেলার কারণে মান্নাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। যাদের কারণে তাকে চলে যেতে হলো তাদের বিচারও হলো না। অবশ্য সব নায়কদের মামলার অবস্থা একই। তবে আশা করছি, এ বছর মামলার কিছু একটা হবে।’

শেলী মান্না বলেন, ‘প্রথম দিকে সবাই বিচারের জন্য সোচ্চার ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে অদৃশ্য কোনো কারণে কেউ আর খোঁজ নেয় না। তবে এখন কিছু মান্নার ভক্তরা তার মৃত্যুর বিচার দাবি করছে। আমরা সেভাবে আগাচ্ছি। আমরা যখন জয়ী হবো তখন হয়তো অনেককে কাছে পাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘মান্নাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এ কারণে তার এ করুণ মৃত্যু হয়েছে। অকালে মান্নাকে চলে যেতে হলো। মান্না তো আর ফিরে আসবে না। তবে তাদের কারণে তাকে অকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। ডাক্তারের অবহেলাজনিত কারণে যেন আর কাউকে প্রাণ দিতে না হয়। যারা প্রকৃতি দোষী তাদের যেন বিচার হয় সেই প্রত্যাশায় রয়েছি।’

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, চিত্রনায়ক মান্নার মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্ট স্থগিত রয়েছে। এ জন্য দীর্ঘদিন মামলাটির বিচারকাজ এগোচ্ছে না। স্থগিত অর্ডার বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভার্চুয়াল কোর্ট চলায় এখন শুনানি হচ্ছে না। রেগুলার কোর্ট চালু হলে মামলাটির শুনানি হবে। উচ্চ আদালত স্ট্রে অর্ডার তুলে নিলে মামলাটির বিচার আমাদের কোর্টে শুরু হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব মামলাটির বিচার শেষ করব।

জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বুকে ব্যথা অনুভব করায় ভোর রাত ৪টায় মান্না ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু ‍কিুছু চিকিৎসাদের অবহেলার কারণে মান্নার মৃত্যুর হয়েছে বলে তার আত্মীয়রা অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রয়াত মান্নার স্ত্রী শেলী কাদেরের ভাই রেজা কাদের ঢাকার মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

                                                                                           বিজ্ঞাপন

আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ১৩ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান সিদ্দিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলার আসামিরা হলেন ডা. মো. এনায়েত হোসেন শেখ, ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াস, ডা. মোমেনুজ্জামান, ডা. ফাতেমা, ডা. মাইনুল ইসলাম মজুমদার ও ডা. খন্দকার মাহবুব হোসাইন।

আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৮ অক্টোবর চার্জগঠন করেন তৎকালীন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক ফিরোজ আলম। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন বিচারক। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য থাকা দিনেই সংশিষ্ট বিচারক বদলি হয়ে যান। থেমে যায় সাক্ষ্য গ্রহণ। এরপর আসামিরা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন |

                                                               

পোষ্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর পড়ুন
© কপিরাইটঃ- এন প্লাস টিভি (২০২০-২০২২)
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD